স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ইরানে সম্ভাব্য হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন ট্রাম্প

স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ইরানে সম্ভাব্য হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন ট্রাম্প
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস পৃষ্ঠপোষক’ রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, তেহরান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া বার্ষিক ভাষণের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তিনি বলেন, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থা ও তাদের ঘাতক প্রক্সিরা সন্ত্রাস, মৃত্যু ও ঘৃণা ছাড়া কিছুই ছড়ায়নি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ইরান পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে এবং এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এছাড়া সড়কপথে বোমা হামলায় মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্যও ইরানকে দায়ী করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, তেহরান উত্তর আমেরিকায় পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।

ট্রাম্প বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান তিনি, তবে ইরানের পক্ষ থেকে ‘আমরা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করব না’—এ প্রতিশ্রুতি এখনো শোনা যায়নি। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক গবেষণা বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।

সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্যও তেহরানকে দায়ী করেন ট্রাম্প। যদিও তিনি যে ৩২ হাজার নিহতের কথা উল্লেখ করেন, তা অধিকাংশ প্রকাশ্য হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং জানুয়ারির অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তা ‘বড় ধরনের মিথ্যার পুনরাবৃত্তি’।

ভাষণের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত ‘গ্যাং অব এইট’-এর সঙ্গে ইরান ইস্যুতে বৈঠক করেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা Chuck Schumer বলেন, ইরান বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে তা জনসমক্ষে আলোচনা করা উচিত। গোপন সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, ব্যয় ও ভুলের ঝুঁকি বাড়ায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প তার প্রায় দুই ঘণ্টার ভাষণের বড় অংশ ব্যয় করেন অর্থনীতি, অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নীতির বিষয়ে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিদেশে নতুন সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে সতর্ক মনোভাব রয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, তাতে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার সহযোগীরা দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আবারও শুরু করতে চায় এবং এই মুহূর্তে তাদের অশুভ লক্ষ্য অনুসরণ করছে।’ তবে তিনি যোগ করেন, যেখানে সম্ভব সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি এলে মোকাবিলায় দ্বিধা করবেন না।

সূত্র- রয়টার্স

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com