

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন-সম্পর্কিত নথি বা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার এই নথি প্রকাশের পর ভুক্তভোগীদের তথ্যের ব্যাপক লিক ও অনলাইনে অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উথ্থাপিত হয়েছে, যা ন্যায্যতা, গোপনীয়তা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক উসকেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (DOJ) প্রায় ৩ মিলিয়ন নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২,০০০ ভিডিও ফাইলসহ বিপুল তথ্যপঞ্জি প্রকাশ করেছে, যা এপস্টেইনের যৌন পাচার, অর্থ, যোগাযোগ ও গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করে। এই নথিগুলিতে বিশ্বব্যাপী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও ইমেইল যোগাযোগও রয়েছে, যেখানে প্রাক্তন রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নথিগুলি ২০ বছরের অধিক তদন্তের অংশ, যা ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর সময় সংগৃহীত হয়েছিল।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে—ভুক্তভোগীর গোপন তথ্য ও নাজুক চেহারার ছবি নেতৃত্বহীনভাবে প্রকাশ হওয়া। DOJ নথি প্রকাশের সময় বেশ কিছু নথি থেকে নাম, মুখ ও অন্যান্য পরিচিতিমূলক তথ্য মুছার কথা বলেছিল, কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে সংস্থা অপ্রচুর বা ভুলভাবে রোগানুসারে (redact) তথ্য জানিয়েছে। এতে অনেক ভুক্তভোগীর নাম, টেলিফোন নম্বর, ব্যাংক ও আর্থিক তথ্য প্রকাশ পায়, এবং এমনকি অনেকে জানান পেয়েছেন নগ্ন বা কম্প্রোমাইজিং ছবি অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে।
একজন বাঁচা ভুক্তভোগী বলেন, “এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর, কারণ আমাদের নিরাপত্তা ও পরিচয় রক্ষা করার কথা ছিল।”
এই ভুলের কারণে DOJ সহস্রাধিক নথি ও মিডিয়া ফাইল ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছে, এবং মুখপাত্র জানিয়েছেন তারা দ্রুত অন্যবারিপণ নিষ্কাশন ও “redaction” সংশোধন করছেন।
নথির অংশ হিসেবে ছড়ানো আবেগপ্রাণ ছবি ও ভিডিওগুলি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু ছবি এমনভাবে ছড়িয়েছে যে তা যুক্তিসংগত প্রমাণ হিসাবে নয়, বরং গুজব, কল্পিত ইমেজ বা ব্যাখ্যা ছাড়া প্রকাশিত প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষত কিছু ক্ষেত্রে—
· ভুলভাবে প্রকাশিত অপ্রতিরোধিত ছবি দেখায়ছেন ভুক্তভোগীদের অস্পষ্ট প্রতিকৃতি
· উচ্ছৃঙ্খল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি ছবি ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক দেখাচ্ছে
—যুগ্ন প্রমাণের অভাবে এসব কন্টেন্টকে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে যে কিছু ছবি ও দাবির মুখে সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল চিত্রগুলি AI বা ম্যানিপুলেটেড ইমেজও আছে, যেমন একজন মেয়রের ছবি যা সৃষ্টিকৃত ও মিথ্যা বলে যাচাই করা হয়েছে।
এই ফাইলসের প্রকাশে রাজনৈতিক স্তরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া উঠেছে। অনেক আইনজ্ঞ ও আইনপ্রয়োগকারী বলেন যে DOJ-র redaction এবং গোপনীয় তথ্য রক্ষা করার ব্যর্থতা “শাস্তিযোগ্য ভুল”, যা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পুরাতন অভিযানগুলোর মান নষ্ট করছে।
বিচার বিভাগ সহ আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই পক্ষেই DOJ-কে আরও স্বচ্ছতা ও সঠিকভাবে redaction করতে বলা হয়েছে।
এপস্টেইন ফাইলস শুধু এক ব্যক্তির অপরাধের নথি নয়—এটা এক বৃহৎ কাঠামোয় সম্পর্ক, শক্তি ও অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
- এতে প্রকাশিত নথিগুলোতে শক্তিশালী ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের তথ্য এসেছে,
- অনেক ভুক্তভোগীর গোপন তথ্য সর্বজনীন হয়েছে,
- ভুলভাবে প্রকাশিত চিত্র ও নথি সামাজিক স্তরে বিশাল গুজব ও বিভ্রান্তি তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ফাইলস যদি নিরাপদ, সঠিকভাবে redaction ও দৃষ্টান্তমূলকভাবে সমাজে ব্যাখ্যা না করা হয়, তাহলে এটি শুধুই ইতিহাস বা বিচারিক নথি হিসাবেই থেকে যাবে না—এটি সামাজিক বিভ্রান্তি, নির্যাতিতের পুনঃআঘাত ও রাজনৈতিক চাপের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসাবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।
এপস্টেইন ফাইলসের সর্বশেষ প্রকাশের পর
- DOJ ভুলভাবে অনেক নথি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে অসংখ্য ফাইলেই নিরাপত্তাহীন ছবি ও গোপন তথ্য ছিল।
- DOJ কিছু ফাইল সরিয়ে নিয়েছে ও আবার redaction সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- সামাজিক মিডিয়ায় ছবি ও ইমেজ নিয়ে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা যাচাই না করা দাবির সঙ্গে সার্বজনীন বলা চলবে না।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও দাবিতে DOJ-এর স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।