

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের কাছে কিউবা কখনোই নতি স্বীকার করবে না— এমন বার্তা দিয়েছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৬৭ বছরের বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বলপ্রয়োগ ও আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রদ্রিগেজ বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অধিকারকে উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছা চাপানোই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশাল সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘকালীন আগ্রাসনের অভিজ্ঞতা।
রদ্রিগেজ বলেন, এর বিপরীতে কিউবার পক্ষে রয়েছে যুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং পুরো জাতির দেশপ্রেমিক চেতনা, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইকে শক্তিশালী করে।
কিউবার সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই বিসর্জন দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কিউবানরা আমাদের দেশ বিক্রি করতে প্রস্তুত নই, কিংবা হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের কাছে আত্মসমর্পণ করব না’। তিনি আরও বলেন, হাভানা তার সেই ‘অপরিহার্য অধিকার’ থেকেও সরে আসবে না, যার মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে নিজস্ব ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা কিউবাকে রক্ষা করব। যারা কিউবাকে চেনে, তারা জানে— এটি একটি দৃঢ়, স্পষ্ট এবং প্রমাণিত অঙ্গীকার।’
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট হুমকির বিরুদ্ধে একযোগে অঞ্চলটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্রসমূহের সংগঠনকে (সেলাক) আহ্বান জানান।
এদিকে ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় কিউবার নাম উল্লেখ করেছেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি বলেন, ক্যারিবীয় এই দেশটি ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’।