‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: মাত্র ১০০ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন অভিযানের ব্যয় ৬ বিলিয়ন ডলার

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: মাত্র ১০০ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন অভিযানের ব্যয় ৬ বিলিয়ন ডলার
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'। এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা। কিন্তু যুদ্ধের এই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচের খাতাটা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

মাত্র ১০০ ঘণ্টা, অর্থাৎ চার দিনের একটু বেশি সময়েই এই অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে ৫৮২ কোটি ডলার! তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্যমতে, এই অঙ্কটা যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মোট প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি।

সহজ কথায়, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র খরচ করেছে প্রায় ৭৮ কোটি ডলার। আর যুদ্ধ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে খরচের বহর। শুধু আক্রমণ চালাতেই এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৩০ কোটি ডলার।

তবে শুধু টাকাই খরচ হয়নি, ইরানের পাল্টা আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ সামরিক সম্পদও ধ্বংস হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২৫২ কোটি ডলার।

ইরানের আঘাতে ধ্বংস দামি সম্পদ

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে কাতারে। আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে বসানো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার সিস্টেম (আর্লি ওয়ার্নিং রাডার) ইরানের মিসাইলের আঘাতে অকেজো হয়ে গেছে। ১১০ কোটি ডলার দামের এই যন্ত্রটি আকাশপথে হুমকির আগাম সংকেত দিত। কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে রাডারটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হানা দিয়েছে ইরান। সেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং কয়েকটি বড় ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংস হওয়া এই যন্ত্রগুলো নতুন করে বসাতে খরচ হবে প্রায় ২ কোটি ডলার।

এছাড়া জর্ডান ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে থাকা আরও কয়েকটি রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে স্যাটেলাইট ছবিতে।

নিজের বিমানেই মিত্রের গুলি!

যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে কুয়েতে ঘটে গেছে এক অদ্ভুত ঘটনা। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুল করে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের ওপর গুলি চালিয়েছে। একে বলা হয় 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার'। সুখবর হলো, বিমানের ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে দুঃসংবাদ হলো, ২৮ কোটি ডলারের বিমানগুলো এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের তিনটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ডলার।

হামলা ঠেকাতেও বিশাল খরচ

ইরান যাতে পাল্টা আঘাত করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রচুর পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। পেইন ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ইরানি মিসাইল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে প্রায় ১৮০টি নেভাল ইন্টারসেপ্টর, ৯০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল এবং ৪০টি থাড (THAAD) মিসাইল ছুড়েছে। এগুলোর একেকটির দাম আকাশছোঁয়া।

সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ বলছে, প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যে পরিমাণ গোলাবারুদ ও মিসাইল খরচ হয়েছে, তা পুনরায় ভান্ডারে ভরতে যুক্তরাষ্ট্রের লাগবে ৩১০ কোটি ডলার। আর সাগরে ভাসমান বিশাল সব বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ সচল রাখতেই প্রতিদিন খরচ হচ্ছে দেড় কোটি ডলার করে।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com