ভারত সফরে রুবিও, আলোচনার কেন্দ্রে জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্য

ভারত সফরে রুবিও, আলোচনার কেন্দ্রে জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্য
প্রকাশিত

শক্তি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। চার দিনের ভারত সফরের অংশ হিসেবে শনিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বাণিজ্য সম্পর্ক এবং কোয়াড জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শনিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছানোর পর দিল্লিতে যান রুবিও। সফরের বাকি সময়ে তার জয়পুর ও আগ্রা সফরেরও কথা রয়েছে। বৈঠকে রুবিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে মোদি জানিয়েছেন, তাদের আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের মোট জ্বালানি আমদানির ৮০ শতাংশের বেশি বিদেশ নির্ভর এবং এর প্রায় অর্ধেকই সাধারণত হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে।

বৈঠকের পর মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রুবিও মোদিকে আশ্বস্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ‘জিম্মি’ করতে দেবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য ভারতের জ্বালানি সরবরাহ বৈচিত্র্যময় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফরের আগে রুবিওও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভারত যত বেশি কিনতে চাইবে যুক্তরাষ্ট্র তত বেশি জ্বালানি বিক্রি করতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াতে আগ্রহী হতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিও কিছুটা কমবে। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি ভারতের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘ রুটের হওয়ায় এটি পুরো সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।

রুবিওর এই সফর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার টানাপোড়েনের সময়েও হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেন। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তা আরও কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হয়। এর বিনিময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, বিমান, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এদিকে, দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর ইস্যু হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তিনিই গত বছরের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছেন। তবে ভারত বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসাও দিল্লির অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৬ মে দিল্লিতে কোয়াড জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও অংশ নেবেন রুবিও। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোটকে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়। তবে এ বছরের কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অংশ নেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সূত্র -বিবিসি

logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com