

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শুক্রবার থেকে বাইরের বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিদেশি ‘ভাড়াটেদের’ কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইরান থেকে কোনও ফোন কল বাইরে যাচ্ছে না এবং বাইরে থেকে সেখানে ফোন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ইরানের অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোও ঠিকমতো আপডেট হচ্ছে না।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে। ইরান কোনোভাবেই বিদেশিদের চর বা ভাড়াটেদের এমন কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না।
খামেনেই ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, গত রাতে তেহরানে একদল দাঙ্গাকারী রাষ্ট্রীয় ভবন ধ্বংস করেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জয় করতে। তিনি ট্রাম্পকে নিজের দেশ সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বাস, গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং মেট্রো স্টেশন ও ব্যাংকে আগুন জ্বলছে। কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী রাসত শহরের এক সাংবাদিক জানান, সেখানকার পরিস্থিতি এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্রের’ মতো। সব দোকানপাট ধ্বংস হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ এই নাশকতার জন্য নির্বাসিত বিরোধী গোষ্ঠী পিপলস মুজাহেদিন অর্গানাইজেশনকে (এমকেও) দায়ী করছে।
গত মাসের শেষ দিকে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে তা দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা। বর্তমানে দেশটির প্রতিটি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বেশ কিছু মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচারের অবসান চাই’ এবং সাবেক রাজতন্ত্রের প্রশংসায় স্লোগান দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে অর্ধেক কমে গেছে এবং ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
ইরানের নির্বাসিত বিরোধী দলগুলো নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানিদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে পাহলভির সঙ্গে দেখা করবেন না।
এদিকে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ইরানকে বিক্ষোভকারীদের ওপর সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ইরান বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দুবাই বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ইরান ও দুবাইয়ের মধ্যে চলাচলকারী অন্তত ৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।