ইরান সতর্ক: যুক্তরাষ্ট্রের হামলা করলে সৌদি, কাতার, আমিরাত ও তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করা হবে

ইরান সতর্ক: যুক্তরাষ্ট্রের হামলা করলে সৌদি, কাতার, আমিরাত ও তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করা হবে
প্রকাশিত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেই ইরান আবারও সতর্ক করে জানিয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় সামরিক হস্তক্ষেপ করেন, তবে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের হুঁশিয়ারি

একজন উচ্চ ও অনামিক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বসবাসরত মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়ে লক্ষ্যবস্তু হুমকি দিয়েছে, যদি ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালায়। ইরান জানিয়েছে, এই বার্তাটি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার ও তুরস্কের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইরানি প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের পক্ষে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে থাকতে পারেন, এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর এল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি (Al Udeid Air Base) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের এই ঘাঁটিতে থাকা কিছু মার্কিন সামরিক কর্মীকে পোস্টার পরিবর্তন বা বেরিয়ে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যদিও এটিকে কোনো পূর্ণ ইভাকুয়েশন বা প্রত্যাহার বলা হচ্ছে না।

এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমান ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০,০০০ জন সেনা অবস্থান করতে পারে।

কেন এই সতর্কতা?

বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ:

  • ইরানের ভেতরে বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের পর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং নৃশংস দমন প্রতিহত করার জন্য কড়া পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।

  • এসব হুমকির জবাবে তেহরান বার্তা দিয়েছে, আন্তর্জা-তিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পরিস্থিতির আন্তর্জাতিক প্রভাব

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সতর্কবার্তা ও পাল্টাপাল্টি হুমকি শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনী তাদের কিছু কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভুল ধারণার কারণে সংঘাত বিকাশের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

উপসংহার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বর্তমানে শুধু কূটনৈতিক ভাষায় নয়, বাস্তবতেও সামরিক ঘাঁটিসহ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে একটি জটিল সংকটে পরিণত হচ্ছে। আগামী দিনের সিদ্ধান্তগুলো কেবল দুটি দেশই নয়—সম্পূর্ণ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকেই প্রভাবিত করবে।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com