

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি বাসার টিনের ট্রাংক থেকে তিন বছরের এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই শিশুর মাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পরকীয়ার জের ধরে নিজের শিশুকন্যাকে হত্যা করে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী প্রবাসী। প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরিদপুরের সদরপুর থানার মিরাজ মোল্লার সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের জের ধরে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই নারী তাঁর প্রেমিকের সহায়তায় নিজ সন্তানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরে শিশুটির মরদেহ বাড়ির ট্রাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান ওই নারী।
প্রেমের টানে পালালেও শেষ রক্ষা হয়নি সেতুর। যার জন্য নিজের সন্তানকে বিসর্জন দিয়েছিলেন, সেই প্রেমিক মিরাজ তাকে ফরিদপুরে তার মামার বাড়িতে রেখে সটকে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সেতু স্বীকার করেন যে, তিনি ফারিয়াকে হত্যা করে ট্রাংকে লুকিয়ে রেখেছেন।
শনিবার সেতুর মা ও মামা তাকে ফরিদপুর থেকে নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ সেতুর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে গিয়ে ট্রাংক থেকে ফারিয়ার পচে-গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, ‘আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এদিকে, একমাত্র নাতনিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ফারিয়ার দাদা ও স্বজনরা। পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও শোক। এলাকাবাসী ঘাতক মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।