

নতুন অভ্যাস গড়া যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা ধরে রাখা ততটাই কঠিন। ব্যায়াম, পড়াশোনা, স্বাস্থ্যকর খাবার বা সময়মতো ঘুম—শুরুর উৎসাহ কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক সময় হারিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যাস ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়, বরং ভুল কৌশল।
আচরণবিজ্ঞানীরা বলছেন, বড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোট ও ধারাবাহিক পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়। বাস্তব জীবনে পরীক্ষিত এমন কিছু কৌশল নিচে তুলে ধরা হলো, যা অভ্যাস ধরে রাখতে সহায়ক।
প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়ামের মতো বড় লক্ষ্য অনেকের জন্য টেকসই নয়। বরং দিনে ৫ মিনিট হাঁটা, ২ পৃষ্ঠা বই পড়া বা অতিরিক্ত এক গ্লাস পানি পান করার মতো ছোট লক্ষ্য সহজেই অভ্যাসে পরিণত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে পরিবেশকে অনুকূলে আনাই বেশি কার্যকর। স্বাস্থ্যকর খাবার সামনে রাখা, শোবার ঘরের বাইরে মোবাইল চার্জার রাখা কিংবা চোখের সামনে বই রাখলে অভ্যাস গড়া সহজ হয়।
একটি পুরোনো অভ্যাসের সঙ্গে নতুন অভ্যাস যুক্ত করলে সেটি সহজে গড়ে ওঠে। যেমন—দাঁত ব্রাশের পর হালকা স্ট্রেচিং বা সকালের চায়ের সময় কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়া।
একদিন অভ্যাসে ছেদ পড়া ব্যর্থতা নয়। সমস্যা হয় যখন টানা ছেড়ে দেওয়া হয়। মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ—একদিন বাদ পড়লে পরদিন আবার শুরু করাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
“আমি ওজন কমাবো” ভাবনার বদলে “আমি একজন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ”—এই পরিচয়বোধ অভ্যাসকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
ক্যালেন্ডারে টিক দেওয়া, অ্যাপ ব্যবহার বা ছোট নোট রাখার মাধ্যমে অগ্রগতি দৃশ্যমান হলে অভ্যাস ধরে রাখার আগ্রহ বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যাস গড়া কোনো হঠাৎ পরিবর্তন নয়; এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ফল। নিখুঁত হওয়ার চেয়ে ধারাবাহিক হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজ একটি ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করলেই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়।