

সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিচারবিভাগীয় সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. মাসদার হোসেনের ‘আইনজীবী’ সনদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
গতকাল বুধবার বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১২ এপ্রিল দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনজীবী মাসদার হোসেন তার মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে এসেছে। উল্লিখিত সংবাদমতে, আইনজীবী মাসদার হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনা করে বার কাউন্সিল ওই আইনজীবীর সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ থাকায় বুধবার সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, কেন তার সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত তার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
মূলত মো. মাসদার হোসেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং আইনজীবী। তিনি সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ‘মাসদার হোসেন মামলা’র বাদী হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত। ১৯৯৯ সালে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার দাবিতে মামলাটি করেন। এই মামলার রায়ের মাধ্যমেই ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়।
মাসদার হোসেন ১৯৮৩ সালে মুনসেফ হিসেবে বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছিলেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
এদিকে আইনজীবী মাসদার হোসেনের মেয়ে মেহেরবা সাবরিন এক বিবৃতিতে দৈনিক কালবেলার প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মেহেরবা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে আমরা কালবেলার কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি; তারা তা ছাপেনি। উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই আমার বাবাকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলার পর এ নিয়ে যে ধরনের ফলো-আপ নিউজ হয়েছে, আমি সেই খবরের লিঙ্কসহ আমার বাবার মূল বক্তব্য এবং এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণাদি যুক্ত করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই কেবল কালবেলার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কিছুক্ষণ আগে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (বার কাউন্সিল) তার সনদ স্থগিত করেছে।’
বিবৃতিতে মেহেরবা বলেন, ‘এমন মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য আমি কিংবা আমার পরিবার—কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। আমি বিনীতভাবে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।’