

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার, কাঠামো এবং সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা আকারে আগের সরকারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হতে পারে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র আমলের তুলনায় মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে বিএনপি। নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় কমানো হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও গতিশীল হবে; একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করা সহজ হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, অতীতে ভেঙে আলাদা করা কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে পুনরায় একীভূত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই খাতভিত্তিক কাজ করা কিছু মন্ত্রণালয়কে এক ছাতার নিচে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয় একীভূত হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী এবং প্রায় এক ডজন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ প্রবীণদের সঙ্গে দক্ষ তরুণদের সমন্বয়ে গড়া হবে নতুন মন্ত্রিসভা। যেসব প্রবীণ নেতা অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন এবং তুলনামূলক কম বিতর্কিত, তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মেধাবী নেতাদের উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু–র নাম আলোচনায় রয়েছে।
নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ–এর নাম ঘুরেফিরে আসছে। শামা ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন।
তরুণদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর সদর থেকে নির্বাচিত শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ থেকে জয়ী ইশরাক হোসেন–কে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এবারের নির্বাচনে মিত্র জোটের সাতজন নেতা ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে জয়ী ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন সেলিম–এর নামও সম্ভাব্য প্রতিমন্ত্রী তালিকায় রয়েছে।
বিগত সময়ে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত থাকা কয়েকটি মিত্র দল থেকেও তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি), জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) এবং নুরুল হক নুর (গণঅধিকার আন্দোলন)। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, তাঁদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।
অন্যদিকে যেসব সিনিয়র নেতা সরাসরি মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাঁদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান–কে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ পড়াবেন। একইদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন, সে চিত্র স্পষ্ট হবে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরই। রাজনৈতিক অঙ্গন এখন তাকিয়ে আছে সেই ঘোষণার দিকে।