

সারাদেশে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় তিন লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোমবার একদিনেই ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬ হাজার ৪৪৪ লিটার অকটেন এবং ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার পেট্রল রয়েছে।
যুগ্মসচিব জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ২৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সোমবার দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল মজুত ছিল। মঙ্গলবার তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টনে। এছাড়া ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। ডিজেল পাচার রোধে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং ফুয়েল কার্ড চালুর জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্থানে এটি চালু করা হবে।
মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ নিয়েও কোনো শঙ্কা নেই। গত বছরের মতোই এ বছরও একই পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।