

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলের। অন্তর্বর্তী সরকার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর।
আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর প্যারেড মাঠে বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মগুরু প্রয়াত অগ্রমহাপণ্ডিত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ উপলক্ষ্যে অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর দেহ ধাতু রাউজানের বিনাজুরী শ্মশান বিহারে নিয়ে যাওয়া হবে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের একজন মানবিক, কল্যাণকামী মানুষ হিসেবে যে গুণাবলি আমাদের মাঝে রেখে গেছেন, তা এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নয় একজন মহাপুরুষ। বিগত একশত বছর তিনি ধর্ম কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দেশে যতগুলো বৌদ্ধ বিহার আছে প্রত্যেকটিতে অনুদান দিতে চেষ্টা করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু উপসংঘরাজ শাসন ভাস্কর শাসনপ্রিয় মহাথের। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম ৯ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা ইস্রাফিল খসরু চৌধুরী। সংবর্ধিত অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে আশীর্বাদক ছিলেন চতুর্দশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের, উপসংঘরাজ প্রিয়দর্শী মহাথের, উপসংঘরাজ শীলরক্ষিত মহাথের, উপসংঘরাজ ধর্মদর্শী মহাথের।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেন বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মগুরু ও সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত জ্ঞানশ্রী মহাথেরো। তিনি একজন শতবর্ষী বৌদ্ধ ভিক্ষু। সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উত্তর গুজরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।