নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনকালে তার সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার পাশাপাশি একইসঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক -আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক ভুয়া খবর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন এবং ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অঙ্গীকারে অটল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেই যা বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়। ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে।
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই বিপ্লব ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ প্রতিবাদকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে লক্ষ্য করে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সত্য ও পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, তার সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারের কোনো সুযোগ রাখবে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে মানুষ এখন সজাগ। ক্রমেই তারা এআই তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।
এসময় সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের “প্রধান শত্রুদের একটি” হয়ে উঠেছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।
উভয় কূটনীতিক গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা জানতে চান, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ-পরবর্তী সময়ের মতো বাংলাদেশে সত্য ও পুনর্মিলন উদ্যোগ সম্ভব কি না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেছেন। তবে সাবেক শাসনামলের পক্ষ থেকে নিজেদের অপরাধ অস্বীকার অব্যাহত থাকায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এমন উদ্যোগের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন সময় উপযুক্ত নয়। শুরুটা কোথা থেকে হবে? সত্য ও পুনর্মিলন আসে তখনই, যখন কেউ নিজের ভুল স্বীকার করে, অনুতপ্ত হয়, অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এখনও কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ নেই। বরং তারা দাবি করছে, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা নাকি সন্ত্রাসীদের হাতে মারা গেছে। তাদের অপরাধের অগণিত প্রমাণ রয়েছে—নির্মম ও বর্বর অপরাধ—তবুও তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারে রয়েছে।
এসময় বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।

