

পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও জীবনমান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
উপদেষ্টার সাথে আজ মঙ্গলবার তার সচিবালয়ের অফিস কক্ষে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে আইএলও প্রতিনিধি দল জানান, কানাডা সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রোগ্রেস প্রকল্পের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ নজর দিতে আগ্রহী। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারী উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে আইএলও কাজ করতে চায় বলে জানায় প্রতিনিধি দল।
আইএলও প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও শ্রম আইন মেনেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। আইএলও এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি এই অগ্রযাত্রায় আমাদের পাশে থাকে, তবে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব।
বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদানের জন্য আইএলও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম এবং যুগ্ম সচিব অতুল সরকার উপস্থিত ছিলেন।
আইএলও প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রোগ্রেস প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার পেড্রো জুনিয়র বেলেন, আইএলও কান্ট্রি অফিসের হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন দালাকোটি এবং ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার অ্যালেক্সিয়াস চিছাম।