শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা: জাপানের সাথে বৈঠক হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা: জাপানের সাথে বৈঠক হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি
প্রকাশিত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে টার্মিনালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে আলোচনা হলেও আয় বণ্টনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) পরবর্তী বৈঠকে জাপানি পক্ষকে পুনরায় সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব, পর্যটন সচিব এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিইকো। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে বেবিচক এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আয় বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কারণে কয়েক বছর ধরে তৃতীয় টার্মিনালটি অচল পড়ে ছিল। শিল্প সংশ্লিষ্টরা এর জন্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করেছেন, যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই বিশাল সম্পদটি অলস পড়ে ছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর জাপানের সাথে অবিলম্বে আলোচনা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশনার পর গত ১৩ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি যুগান্তকারী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাপানি পক্ষকে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।

জাপানি কনসোর্টিয়াম— যার মধ্যে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিটোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন— তাদের প্রস্তাবিত পরিচালনা নকশা বৈঠকে তুলে ধরে। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনায় বিমানবন্দরের 'এমবারকেশন ফি', 'আপফ্রন্ট পেমেন্ট' এবং 'রেভিনিউ শেয়ার' বা আয় বণ্টনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই আমরা বারবার এক টেবিলে বসছি। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনালটি চালু করতে।"

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং আগামী সোমবার একটি চূড়ান্ত সংশোধিত প্রস্তাব দিতে বলেন। তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে জাপানের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বিমানবন্দরের যাত্রীচাপ কমাতে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই তৃতীয় টার্মিনালটি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। সোমবারের বৈঠকে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com