

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা নীতিগতভাবে ব্যক্ত করেছেন।
আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
জবাবে, আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে কাজ করতে ইচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়ে একটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পাস করে।
এই পরিকল্পনার ধারাগুলোর মধ্যে একটি ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরাপত্তা এবং তত্ত্বাবধানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠন।
হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য তার দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা সম্পর্কে হুকারকে অবহিত করেন এবং নির্বাচনসহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠককালে তারা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশ থেকে আমেরিকান কৃষি পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।
তিনি হুকারকে সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড ব্যবস্থায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ক্যাটাগরির ভিসা, ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
হুকার আশ্বাস দেন যে মার্কিন সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
অননুমোদিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অব্যাহত সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা দেশ বলে স্বীকার করে তিনি তাদের জন্য মার্কিন সহায়তা ও সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য হুকার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
খলিলুর রহমান মার্কিন পক্ষকে বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশে সেমি-কন্ডাক্টর উন্নয়নের জন্য ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের অর্থায়নে প্রবেশাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।
সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে পৃথক বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, মার্কিন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, মার্কিন ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিষয়সহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।