

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে দেশে ও বিদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মহামতি গৌতম বুদ্ধ সারাজীবন মানুষের কল্যাণে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করেছেন। শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। বুদ্ধের পঞ্চনীতি আমাদের আত্মিক, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নে অনন্য এক দিকনির্দেশনা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপ্রয়াণ এ ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আমি দেশের ও বিশ্ব বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’
তিনি আরও বলেন, মহামতি বুদ্ধ আজীবন একটি সৌহার্দ্যময় ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়েছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও সংঘাতময় বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত হানাহানি রোধসহ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ মুক্ত পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে প্রতিপালন করে আসছেন। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণও যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এ দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে জ্ঞান, মেধা, কর্মদক্ষতা ও কৃতিত্বে নিজেদের আরো ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন।’ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুখী-সমৃদ্ধ, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো-এ প্রত্যাশা করি। রাষ্ট্রপতি বুদ্ধ পূর্ণিমা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করেছেন।