

বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সমঝোতা স্মারক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর দুই দেশের মধ্যে আজ প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং উরুগুয়ের পক্ষে দেশটির অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত আলবার্তো আন্তোনিও গুয়ানি আমারিলা সমঝোতা স্মারকে সই করেন এবং নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
সভায় উভয় পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, ক্রীড়া এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের (চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
অন্যদিকে, উরুগুয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল দুটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করে। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় দেশ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশ বৈঠকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট সম্পর্কে উরুগুয়েকে অবহিত করে এবং এ বিষয়ে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায়।
উভয় পক্ষ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী পরামর্শ সভা আয়োজন করা এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়।