স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছর থেকেই দুর্নীতিমুক্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছর থেকেই দুর্নীতিমুক্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত

আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব দুর্নীতি রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করা হবে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় দুর্নীতির উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের টেন্ডারগুলো এমনভাবে করা হয় যেন নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি কাজ পায়। সারা বিশ্বে হামের টিকার ২০টি ভেরিয়েন্ট থাকলেও আমাদের এখানে নির্দিষ্ট ভেরিয়েন্টের কথা লিখে দেওয়া হয়, যাতে বিশেষ কেউ লাভবান হয়। এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কেনাকাটায় দুর্নীতির যে পথগুলো রয়েছে, সেগুলো আমরা এখনো পুরোপুরি বন্ধ করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে পারব। এ জন্য আমি চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই।’

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ওষুধের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গুর ওষুধ পরীক্ষা করে দেখেছি মান ঠিক আছে, কিন্তু স্প্রে করলে মশা মরে না। কারণ, ওষুধে কেরোসিন বা পানি মিশিয়ে পাতলা করে ফেলা হয়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সঠিক অনুপাতে মশা মারার ওষুধ স্প্রে করা হয় না। অল্প ওষুধে বেশি করে কেরোসিন মেশানো হয়, তাই মশা মরে না। সঠিক অনুপাতে ওষুধ দেওয়ার জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয়, তার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। খাবারে তেলাপোকা পাওয়া গেলে রোগ নিরাময়ের বদলে মানুষ আরও অসুস্থ হবে। এ ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে হকারদের নোংরা খাবার বিক্রি এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলোও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

জনস্বাস্থ্যের জন্য পরিবেশ দূষণকে বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এ কারণে চিকিৎসা করেও মানুষকে সুস্থ করা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যত্রতত্র ব্যাটারি পোড়ানো ও কারখানার ধোঁয়ায় মানুষ ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একদিকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণে মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে।

করোনাকালে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দক্ষ, আপনারা পারেন। কিন্তু নৈতিকতার সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নৈতিকতার বিজ্ঞানকে পেশায় বিনিয়োগ না করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com