

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের ১০টি দলের মধ্যে ২৫০টি সংসদীয় আসনে আসন ভাগাভাগি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বাকি ৫০টি আসন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যায় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোট থেকে বের হয়নি। এখন ১০ দলের আসন সমঝোতার বিস্তারিত রাতে ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াত ও এনসিপি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইসলামী আন্দোলন না আসায় এনসিপির আসন সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে এনসিপির একজন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, এরকম সম্ভাবনা কম। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
আসন সমঝোতার বিষয় নিয়ে জামায়াতের মগবাজার কার্যালয়ে বসা বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা আছেন।
অন্যদিকে দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয় নাই, বহুমাত্রিক আলোচনা এখনো চলছে।'
এর আগে আসন সমঝোতা নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এবং দলের ভেতরে একাধিক স্তরে বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা আসতে পারেনি।
এর জেরে বুধবার বিকেলে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলেও পরে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও এবি পার্টি জোটে যোগ দেয়। পরে দলগুলো স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়।
জোটের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা জানান, শুরুতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতার নীতি থাকলেও পরে কয়েকটি দল নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা দাবি করতে শুরু করে। এতে ইসলামী আন্দোলন ৭০টির বেশি আসন চাইলে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসন দিতে রাজি হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ২৫টি আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ১৫টি আসন দিতে চায়।
ইসলামী আন্দোলন শুরুতে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও আলোচনার পর ধাপে ধাপে সেই দাবি কমিয়ে সর্বশেষ ৫০টির বেশি আসন দাবি করে। তবে জামায়াত তাদের ৪০টি আসন দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতা এই প্রস্তাবে রাজি হননি।