

সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনরায় অমান্য করলে ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, 'জুলাই সনদে না ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নির্বাচনের পর পেইড বুদ্ধিজীবীরা বলছে সরকার [জুলাই সনদ বাস্তবায়ন] মানতে বাধ্য নয়। ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয়, তাহলে ওদেরকে ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।'
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৪টায় সারাদেশে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা শেষ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কোনো টালবাহানা ছাড়াই তার তদন্ত করতে হবে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা-ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'শহীদ ওসমান হাদির বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তনও জনগণ মেনে নিবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'সমাবেশ পরবর্তী মিছিল প্রেসক্লাব মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ যাবে।'
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে ওমর ফারুক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, 'সংসদে যাওয়ার আগেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে এটা ভাবি নাই। জনগণের ওপর বিশেষ করে নারী সমাজের ওপর যে হামলা ও নিপীড়ন হচ্ছে তা জঘন্য অপরাধ। সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দল একসঙ্গে লড়াই করে যাবে।'
জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, '১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচন হয়নি, গণভোটও হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা চলবে না।'
তিনি বলেন, 'আগামীর বাংলাদেশ চলবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। জনগণ স্বৈরাচার তাড়াতে পেরেছে সুতরাং সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু নির্বাচিত দল সেটা ভুলে গিয়ে নির্বাচনের পরের দিন থেকে জুলুম-নিপীড়ন শুরু করেছে।'
এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি, বরং ডাকাতি করেছে। পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে তাদেরকে ১১ দল রাজপথে জবাব বুঝে নিবে।'
তিনি বলেন, 'ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচারের দাবিতে মাঠে গেছি। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাব দ্রুত বিচার করার। আমাদের এতদিন বলা হয়েছে নির্বাচন ও বিচার মুখোমুখি না করার।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা প্রমাণ করেছি আমরা নির্বাচনবিরোধী না। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই। সংস্কারে জনগণ 'হ্যাঁ'- এর পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।'
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'আমার বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। প্রত্যেকটি হিসাব আমরা তারেক রহমানের কাছে বুঝে নিবো।'
তিনি বলেন, 'আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হবেন না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।'
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, 'বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই নির্বাচনের পর সারাদেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে, তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।'
জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, '২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশকে, প্রশাসনকে, কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ভোটের পরেই তারা হামলে পড়েছে বিরোধীদের ওপর। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, মজলুমরা থামতে জানে না।'
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, 'আজকের টিআইবি রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে কীভাবে সর্বস্তরে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে।'
কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে ও এলডিপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, 'এই অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা ভুল করেছি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মানুষদের নিয়েই এই নির্বাচন হয়েছিল। হাদির খুনীদের পালানোর পরেই আমাদের সাবধান হওয়া দরকার ছিল।'
তিনি আরও বলেন, '১১ দল উদারতা দেখিয়ে ভুল করেছে। এরপরেও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন করতে না পারে।'
ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, 'আমাদের প্রত্যাশা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, কিন্তু সেটি হয়নি। এরপর আবার শুরু হয়েছে হামলা।'