

বিনিয়োগের জন্য বিদেশিরা এলেও নির্বাচিত সরকারের জন্য তারা অপেক্ষায় আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপথ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কাঠামোগত রূপান্তর নিয়ে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ভিয়েতনাম, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ সমস্যায় পড়েছে। বাংলাদেশ তার চেয়ে অনেক সুবিধাজনক আবস্থানে আছে। প্রতিনিয়ত বিদেশিরা বাংলাদেশ আসছে, কিন্তু তারা বিনিয়োগ করছে না। নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
‘নির্বাচিত সরকার এলে সবাই বিনিয়োগ করবেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হবে’, যোগ করেন তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাস রাখতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই বিশ্বাসের অভাব। আস্থাহীনতার কারণে ডি-রেগুলেটে (ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ) করা হয়েছে।
আগামী সরকারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিকে এখান থেকে কীভাবে তুলে আনা হবে সেটা। আমাদের সংস্কারের বিকল্প নেই। সংস্কারেই যেতে হবে, বাজারই ঠিক করবে কী ধরনের সংস্কার লাগবে। পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা আনতে হবে। আমি এ কথার সঙ্গে একমত যে, বছরের পর বছর ধরে যেসব ‘গারবেজ অ্যাকাউন্ট’ দিয়ে সাজানো হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করা জরুরি। প্রতিবছর হিসাব সাজিয়ে সমস্যা আড়ালের কোনো মানে নেই; এতে সমস্যা আরও বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে মূলত এই হিসাব সাজানোর সংস্কৃতির কারণেই।
পুঁজিবাজার নিয়ে বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, পুঁজিবাজার স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না, তবে আগামীতে ক্ষমতায় এলে অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারেরও সংস্কার করবে বিএনপি।
তার মতে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে অতীতে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়েছে সরকার। অথচ পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণের চাপ কমানো যেত। বাংলাদেশে এটির চর্চা নেই। এ বিষয়ে বিএনপি গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরা সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন, অর্থনীতিবিদ ও র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এতে বিদেশি ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকরী ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।