নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান: রয়টার্স
উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এতে এ পর্যন্ত বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে বিএনপি। এদিকে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। নিম্নে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ের পথে এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জোট সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি গণমাধ্যম। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
২০০৮ সালে সামরিক–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার পর চিকিৎসার কথা বলে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থানকালে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে যুবনেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে রাজনৈতিক দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়। শেখ হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন।
গত বড়দিনে দেশে ফিরে ঢাকায় নায়কোচিত অভ্যর্থনা পান তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু বছর আধিপত্য ছিল শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার। তারেক রহমানের বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকারে তারেক রহমান বলেছেন, কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারে সহায়তা বৃদ্ধি, তৈরি পোশাক খাতের বাইরে খেলনা ও চামড়াশিল্পের মতো নতুন শিল্পে বিনিয়োগ, এবং প্রধানমন্ত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে তার ঘোষণায়।
দেশে ফেরার পর নিজের সংযত ও শান্ত ভঙ্গিতে নতুন ভাবমূর্তি গড়তে সচেষ্ট তিনি। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ‘সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র’ পরিচালনার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন তারেক রহমান। `প্রতিশোধে কিছু আসে না। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা,` বলেছেন তিনি।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা ও ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয়। তবে তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর সব মামলাতেই তিনি খালাস পান।
দলের ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে জোট কৌশল- সবকিছুতেই তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বংশানুক্রমিক রাজনীতির অংশ হলেও, তারেক রহমানের ভাষায়, তার প্রধান লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া। তারেক রহমান বলেছেন, `গণতন্ত্র চর্চা করলেই দেশ এগোবে, আমরা দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।`

