

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য ত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, তা ব্যবহার করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাই এবার সব কথা বন্ধ করে দেশ গঠনের কাজে নামতে হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি বাছাইয়ের দিন নয়, এটি বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার দিন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে, তখন বিএনপি ও বাংলাদেশের গায়ে ছিল দুর্নীতির তকমা। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সরকার ২০০৬ সালে যখন ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তখন বিএনপি সরকার দেশকে দুর্নীতির তকমা থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, কাজেই এই দেশে যে দুর্নীতি আমরা গত ১৬ বছর ধরে দেখেছি, সেই দুর্নীতি থেকে যদি দেশকে বের করতে হয়, তাহলে একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সেটি করা সম্ভব। কারণ, বিএনপির সেই অভিজ্ঞতা আছে।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় যে দুর্নীতি দমন কমিশন করা হয়েছিল, সেটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা হয়েছিল। যে কোনো ব্যক্তির দুর্নীতির তদন্ত তারা স্বাধীনভাবে করতে পারতো। তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়ার দরকার ছিল না। খালেদা জিয়ার সেই হিম্মত ছিল বলেই বিএনপি সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে শতভাগ স্বাধীন করে দিয়েছিল।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন ছিল, এখানে বসে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। একইভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন— তখন চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তখন মা-বোনেরা যে কোনো সময় নিরাপদে রাস্তায় হাঁটা-চলা করতে পারতেন। ব্যবসায়ীরা নিরাপদে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারতেন।
তারেক রহমান বলেন, অর্থাৎ বিএনপির সেই অভিজ্ঞতা আছে, কীভাবে দুর্নীতি থেকে দেশকে টেনে বের করে আনতে হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হয়, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়। তাই বলছি, দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে দরকার পরিকল্পনা, যা বিএনপির আছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়েছে বিগত স্বৈরাচারী সরকার। ফলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাট ও মৌলিক অবকাঠামোর প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি।
তিনি দাবি করেন, এ সময়ে দেশ থেকে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, অথচ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিএনপির সফল অভিজ্ঞতা ও রেকর্ড রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে পরদিন অর্থাৎ ১৩ তারিখ থেকেই ঢাকা-৯ আসনে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ, হাসপাতাল সুবিধা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ হাতে নেওয়া হবে।
এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-৯ আসনে যেসব বাঁশের সেতু রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাকে ‘এলাকার সন্তান’ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়ন করতে হলে এমন একজন প্রতিনিধিই প্রয়োজন, যিনি এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন। যার বেড়ে ওঠা এই এলাকায়, মানুষের সঙ্গে যার প্রতিদিনের সম্পর্ক— একমাত্র তার পক্ষেই এই এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। হাবিব তেমনই একজন। আপনারা আগামী ১২ তারিখ তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।
তিনি আরো বলেন, এলাকায় খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।