

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করলে বিএনপি আবারও বিপদে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার রহিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে তাহলে তা শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের জন্যও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দীর্ঘদিন দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েম করে মানুষের অধিকার হরণ করেছে। সেই দলকে আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা মানে ফ্যাসিবাদকে নতুন করে সুযোগ দেয়া। গণভোট প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ভবিষ্যতে দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ রোধ করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে। এসময় তিনি রাজনৈতিক কারণে পিছিয়ে পড়া বগুড়া জেলার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আব্দুল হক সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিগত ১৬ বছর যারা তলে তলে স্বৈরাচারের সঙ্গে মিশে ছিল, সেই ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারী চক্র থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তারা এখন ভিন্ন বেশে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের রুখে দিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আপনাদেরকে অনেকেই এসে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে তাদের একটাই নাম, তারা হচ্ছে ‘গুপ্ত’। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা রাজপথে দেখি নাই। তারা তলে তলে তাদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ আগস্ট পালিয়ে গিয়েছে। এই চক্রটি যেন আমাদের ভাই-বোনদের আত্মত্যাগের অধিকার স্তব্ধ করতে না পারে, সে জন্য আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।” বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো মেরি এবং গত দেড় দশকে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, এখন সময় দেশ গড়ার। ৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।’
জনসভায় তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গজুড়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়তে চাই। আসুন সবাই মিলে শপথ নিই: করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
বিকেল থেকেই সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।