বিএনপি’র সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল:পদে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

বিএনপি’র  সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল:পদে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন
প্রকাশিত

দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসে সরকার ও বিএনপি যেন অনেকটাই একাকার। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দল ও সরকারের মধ্যে কাজের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ব্যতিক্রম ছাড়া (কেন্দ্রীয় পদ) মন্ত্রী-এমপিদের দলের জেলা, থানা কিংবা মহানগরীর শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দিতে চায় বিএনপি। মূলত রাজনীতিতে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতেই এমন পদক্ষেপ নিতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। এতে সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি দলীয় পদ হারাতে পারেন বলে দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কার্যকর করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলে জেলা-মহানগর কমিটি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো ঢেলে সাজাতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। প্রথম ধাপে সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে জেলা কমিটি থেকেও বাকিদের সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কেউ কেউ দলের সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দিয়ে মন্ত্রী ও এমপির প্রশাসনিক কাজে সক্রিয় থাকতে চান। দলের একাধিক পদে না থেকে একটি পদে থেকে মন্ত্রী ও এমপিরা প্রশাসনিক কাজে মনোযোগ দিলে সরকারের গতি বৃদ্ধি পাবে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা গেছে, দলের সংস্কারের এ অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি এখন পুরোদমে মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত। এ ছাড়া দলীয় পদ ছেড়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার ও দলের পৃথক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমপি-মন্ত্রীরা যদি আঁকড়ে থাকেন, তাহলে দল ও সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হয়। অনেকে আবার দলের কাজেও ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না। তাই কেউ কেউ সাংগঠনিক একাধিক পদ ছেড়ে দিয়ে একটি পদে থেকে দায়িত্ব পালনের চিন্তাভাবনা করছেন। এক্ষেত্রে হাইকমান্ডের চিন্তা দল ও সরকার পরিচালনার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার পরিচালনায় সফল হতে হলে দল ও সরকারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য থাকা অপরিহার্য। মন্ত্রীরা প্রশাসনিক কাজে এবং অন্য নেতারা দল গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী গণমাধ্যামকে  বলেন, সরকার ও দল এক থাকা যৌক্তিক নয়। দলের প্রধান ও সরকার প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না, এটা জুলাই সনদের সংলাপে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি সরকার ও দল একা হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি সবকিছুতে এত দলীয়করণ করছে যে, দল ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার ও দল আগামীদিনে একাকার হয়ে গেলে এটা দলের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বিএনপির কাজে দেখা যাচ্ছে অন্যরকম। আইন-কানুন মোতাবেক সরকার সরকারের কাজ করবে, দল দলের কাজ করবে—এটাই হওয়া উচিত।

logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com