যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের

যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের
প্রকাশিত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে মাঠের বাইরের রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে দেশটিকে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একদল সংসদ সদস্য।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর ২৩ জন ব্রিটিশ এমপি সংসদে একটি যৌথ প্রস্তাবে সই করেছেন। সেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা অভিযান ঘিরেই বিতর্কের শুরু

চলতি মাসে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের এক ঝটিকা অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দেওয়া সামরিক হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের মতে, একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকে বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকের আয়োজক হিসেবে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

‘শান্তি পুরস্কার’ ও দ্বিমুখী অবস্থান

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাদের প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ দেয়। ফিফার দাবি ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা।

তবে এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেনেজুয়েলা ও নাইজেরিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান নতুন করে প্রশ্ন তোলে ফিফার অবস্থান নিয়ে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত এবং মেক্সিকো সীমান্তে সেনা মোতায়েনের আলোচনা ক্রীড়াঙ্গনে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা ও জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদুরোকে আটক করা ছিল একটি আইন প্রয়োগমূলক অভিযান। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরো মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত একজন অবৈধ নেতা।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করে গভীর উদ্বেগ জানান।

রাশিয়া নিষিদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র নয় কেন: প্রশ্ন এমপিদের

ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়াকে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। সেই নজির টেনে ব্রিটিশ এমপি ব্রায়ান লেইশম্যান প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি কেন প্রয়োগ করা হবে।

তবে এ বিষয়ে ফিফা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। আইওসি জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাইরে থেকে ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি অব্যাহত থাকলে ফিফা ও আইওসির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইরান, হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের ভ্রমণ জটিলতাও ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাজনীতির এই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বড় প্রশ্ন।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com