

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের সব ধরনের প্রস্তুতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের আপত্তির প্রতি সংহতি জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
সূত্রমতে, পিসিবি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে বিশ্বকাপের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পরে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেক্ষেত্রে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশের আপত্তির বিষয়টিকে পাকিস্তান 'যৌক্তিক ও বৈধ' বলে বর্ণনা করেছে। পিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি সমাধান না হয়, তবে পাকিস্তানও এই টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। পাকিস্তান স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ সমর্থন করেছে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিসিবি প্রস্তাব দিয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় যদি ভেন্যু পাওয়া না যায়, তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজন করা যেতে পারে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ এবং আইসিসি নারী কোয়ালিফায়ারের মতো বড় ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজন করার মাধ্যমে তারা যেকোনো বড় আসর আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে, একটি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই) স্পষ্ট করেছে যে, আইসিসি শ্রীলঙ্কা থেকে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সরাবে না। বাংলাদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গ্রুপ পরিবর্তন করতে পারে—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, "আমরা নিশ্চিত আশ্বাস পেয়েছি যে মূল সূচি পরিবর্তন হবে না। আমরা শ্রীলঙ্কাতেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলব।"
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, বিশেষ করে ভারত সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে জানা যেতে পারে। সম্প্রতি ঢাকায় আইসিসি এবং বিসিবির মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।