

চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার কারণে মিশন আগেভাগে শেষ করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ছেড়েছেন চার নভোচারী। স্পেসএক্সের একটি ক্যাপসুলে করে তারা পৃথিবীর পথে রওনা হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, ‘এন্ডেভার’ নামের স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানটি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে কক্ষপথ থেকে অবতরণ যাত্রা শুরু করে। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের কথা রয়েছে।
এন্ডেভার ক্যাপসুলে রয়েছেন নাসার নভোচারী জিনা কার্ডম্যান ও মাইক ফিনকে, জাপানের কিমিয়া ইউই এবং রাশিয়ার ওলেগ প্লাতোনভ। তারা স্পেসএক্সের ১১তম মানববাহী মিশনের অংশ হিসেবে আইএসএসে ১৬৭ দিন অবস্থান করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে তারা নাসার এক্সপেডিশন-৭৪ মিশনের সদস্য ছিলেন, যা শুরু হয় গত ৮ ডিসেম্বর।
নাসা জানায়, ক্রুদের একজনের গুরুতর চিকিৎসাজনিত সমস্যার কারণে মিশনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী মিশনটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ক্রুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি নাসা। সংস্থাটির প্রধান স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কর্মকর্তা জেমস পোল্ক বলেন, এ ঘটনা মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং নাসার ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম।
পোল্ক বলেন, নভোচারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই ক্ষেত্রেও আমরা সেটিই করেছি।
এক্সপেডিশন-৭৪-এর নেতৃত্বদানকারী অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্নেল মাইক ফিনকে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, মিশন আগেভাগে শেষ করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। তিনি বলেন, “মাটিতে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সঠিক, যদিও কিছুটা আবেগময়।”
বুধবার নাসা সরাসরি সম্প্রচারে এন্ডেভারের হ্যাচ বন্ধ করা, আইএসএস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার দৃশ্য দেখায়। ওই সময় মহাকাশযানটি অস্ট্রেলিয়ার ওপর দিয়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে চার নভোচারী তাদের কালো-সাদা ড্রাগন প্রেসার স্যুট পরীক্ষা করছেন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন চালু করা ও প্যারাস্যুট খুলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের দৃশ্যও নাসা সরাসরি সম্প্রচার করবে।
স্পেসএক্স ক্রু-১১ মিশনের সদস্যরা ফিরে আসার পর আইএসএসে দুইজন রুশ ও একজন নাসার নভোচারী এক্সপেডিশন-৭৪ মিশনের কাজ চালিয়ে যাবেন। এদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্সের পরবর্তী ক্রু-১২ মিশন মহাকাশ স্টেশনে নতুন ক্রু পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।