

বাংলাদেশে বহু এনজিও বা ফাউন্ডেশন আছে যারা বড়‑বড় করপোরেট CSR (Corporate Social Responsibility) প্রকল্পের মতো কোয়ালিটি‑ব্র্যান্ডেড সেবা দেয়। কিন্তু জাহেদী ফাউন্ডেশন প্রেক্ষাপটটা আলাদা, এটি একপাশে স্ট্যান্ডার্ড বিল্ডিং বা লোগো‑ড্রিভেন CSR প্রোজেক্ট নয়; বরং একটি স্থায়ী, মাঠভিত্তিক সমাজকল্যাণ আয়োজনে রূপান্তরিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে ফোকাস করে, এবং এর কাজগুলো শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃতভাবে বাস্তব প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়।
জাহেদী ফাউন্ডেশন ২০০৯ সালে গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রের Joint Stock Company ও NGO Bureau‑তে নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক কল্যাণ সংগঠন হিসেবে কাজ করে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্যের অবসান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুযোগ‑সুবিধা পৌঁছানো।
এর প্রতিষ্ঠাতা লেট মো. জাহিদ হোসাইন মুসা ছিলেন ভাষা আন্দোলন কর্মী, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী, যিনি স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে দীর্ঘসময় কাজ করেছেন। ফাউন্ডেশন আজ তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে।
শিক্ষা খাতে ফাউন্ডেশনের অবদান কেবল ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
Musa Mia Buddhi Bikash Biddaloy
Jabeda Khatun Academy
Nurunnahar Zinnatul Collegiate School
Bhasha Shoinik Musa Mia Honours Bhaban
Police Lines Model School Bhaban
ICT Incubator and Language Centre
Nahida Zahedee Laboratory Bhaban
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু ভবন তৈরি নয়, নিয়মিত স্কলারশিপ দান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।
ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখছে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে, চিকিৎসা সহায়তা ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে:
Musa Mia Diabetic Centre পরিচালনা
জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন ভ্যান, ICU ওয়ার্মার ও ফটোথেরাপি যন্ত্র প্রদান
ইউনিট হসপিটালে ভেন্টিলেশন সিস্টেম ও অ্যানুবল্যান্স সরবরাহ
করোনা মহামারীর সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার, PPE ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ
এই উদ্যোগগুলো মাঠভিত্তিক সমস্যার মোকাবিলায় বাস্তব সাহায্য হিসেবে কাজ করেছে।
ফাউন্ডেশন স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও কম্বল বিতরণ করে থাকে, বিশেষ করে শীতকালে প্রায় ১০,০০০ জনের জন্য কম্বল বিতরণ করা হয়।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটের সময় প্রায় ৫৫০ টন খাবার, ১০,০০০টি কম্বল, ১০০টি নলকূপ এবং ৭৫টি ল্যাট্রিন স্থাপন এবং দৈনিক ১৬,০০০ মানুষকে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা।
জেলা শিল্পকলা চেম্বার ভবনের অডিটোরিয়াম নির্মাণ
বিরল Talipam গাছের সংরক্ষণ ও চারা রোপণ
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিনি ইকো পার্ক উন্নয়ন
পুলিশ ও ট্রাফিক সার্ভিসকে পিক‑আপ গাড়ি প্রদান
ফাউন্ডেশন শুধু স্বল্পকালীন CSR প্রকল্প নয়। বরং স্থানীয় মানুষকে সরাসরি সুবিধা দেয়ার, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো তৈরি ও পরিবেশ উন্নত করার মতো স্থায়ী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করছে।
ফাউন্ডেশনের কাজগুলো শুধু ফান্ডিং বা অনুদানের ভিত্তিতে নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তব প্রয়োজনে সংশোধন করে থাকে।
নির্বাহী পরিচালক মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী সামাজিক কল্যাণ কর্মে দীর্ঘদিন যুক্ত, সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে নিজেকে CSR থেকে বাস্তব সমাজসেবা‑ভিত্তিক মডেলে স্থানান্তর করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও।
জাহেদী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে দক্ষতা স্পষ্ট, এটি স্থায়ী এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিবেদিত। তবে এটি এখনো একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক উদ্যোগ; তাই সীমাবদ্ধতা যেমন‑
সম্পূর্ণ কমিউনিটি‑চালিত কাঠামো না থাকা
তথ্য‑উন্মুক্ততা (public reporting) কম
দীর্ঘমেয়াদি সাসটেনেবিলিটি চ্যালেঞ্জ
এইসবের মোকাবিলায় ফাউন্ডেশনকে হতভাগা সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরো পর্যালোচনা, সংশ্লেষ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা দরকার।