প্রতি ১.৮৮ মিনিটে ঘুরছে ২,৩০০ ফুট দীর্ঘ গ্রহাণু, বিজ্ঞানীদের বিস্ময়
বিজ্ঞানীরা সৌরজগতে অতি-দ্রুত ঘূর্ণায়মান গ্রহাণুর একটি বিরল ও বিস্ময়কর দল আবিষ্কার করেছেন, যার মধ্যে একটি গ্রহাণু ঘূর্ণনের গতিতে সব পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। চিলির ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরির সর্বাধুনিক পর্যবেক্ষণে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝামাঝি অবস্থিত গ্রহাণু বেল্টে মোট ১৯টি অতি দ্রুত ঘূর্ণায়মান গ্রহাণুর সন্ধান মিলেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরাসংবলিত রুবিন অবজারভেটরির তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক সাময়িকী দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।
অতি-দ্রুত ঘূর্ণনের রহস্য
গবেষকদের মতে, একটি গ্রহাণুর ঘূর্ণনের গতি তার উৎপত্তি, গঠন ও বিবর্তন ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। সাধারণভাবে কোনো গ্রহাণু অত্যন্ত দ্রুত ঘুরতে থাকলে সেটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। কারণ অধিকাংশ গ্রহাণু মূলত ছোট ছোট পাথর ও ধ্বংসাবশেষের সমন্বয়ে গঠিত, যাকে বিজ্ঞানীরা “রাবল পাইল” বা ধ্বংসস্তূপ-গঠন বলে থাকেন।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৭৬টি গ্রহাণুর মধ্যে ১৬টি অতি-দ্রুত ঘূর্ণায়মান (১৩ মিনিট থেকে ২.২ ঘণ্টায় একবার ঘোরে), আর তিনটি গ্রহাণু পাঁচ মিনিট বা তারও কম সময়ে একবার পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করে—যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
২০২৫ MN45: রেকর্ডভাঙা গ্রহাণু
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ২০২৫ MN45 নামের একটি গ্রহাণু। প্রায় ২,৩০০ ফুট ব্যাসবিশিষ্ট এই পাথুরে বস্তুটি প্রতি ১.৮৮ মিনিটে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে—৫০০ মিটার বা তার বেশি আকারের গ্রহাণুগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ ঘূর্ণন গতি।
এই গতি অনুযায়ী গ্রহাণুটির ভেঙে পড়ার কথা থাকলেও তা অক্ষত রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
NOIRLab-এর এক বিবৃতিতে গবেষণার প্রধান লেখক সারাহ গ্রিনস্ট্রিট বলেন,
“এই গ্রহাণুটি এমন উপাদান দিয়ে গঠিত হতে হবে, যা একে এত দ্রুত ঘোরার পরও একত্রে ধরে রাখতে সক্ষম। এটি সম্ভবত একটি কঠিন পাথরের মতো শক্ত কাঠামো।”
সৌরজগত বোঝার নতুন দিগন্ত
গ্রিনস্ট্রিট আরও বলেন, রুবিন অবজারভেটরি এমন গ্রহাণু পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করছে, যেগুলো আগে কখনো বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর শুরু হতে যাওয়া Legacy Survey of Space and Time (LSST) প্রকল্পের মাধ্যমে আরও অজানা ও অস্বাভাবিক ঘূর্ণায়মান গ্রহাণু আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এসব আবিষ্কার সৌরজগতের সংঘর্ষ ইতিহাস, গ্রহাণুর অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ভাঙনের ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে।
সূত্র:
দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স | NOIRLab | ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি

